You are currently viewing গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ
গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ

গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ

গর্ভবতী হওয়ার লক্ষন

গর্ভবতী হওয়ার লক্ষন সম্পর্কে ধারনা না থাকার কারনে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের জটিলতার সম্মুখীন হন। কারন গর্ভধারন করার পরে প্রয়োজন পরে বিশেষ যত্নের। অনেকে গর্ভধারন করার পরেও বুঝতে পারেনা  ফলে গর্ভের সন্তান ও নিজের মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। সাধারনত গর্ভধারন করার শুরু থেকেই খাদ্যাভ্যাস এবং চলাফেরার মধ্যে পরিবর্তন আনতে হয়। তাই সবার উচিৎ গর্ভধারনের লক্ষন গুলো জেনে রাখা। 

গর্ভাবস্থায় লক্ষন

গর্ভাবস্থার লক্ষণগুলিকে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। যেমন : ১. প্রাথমিক লক্ষন  এবং ২. দেরীতে লক্ষন। 

১. গর্ভাবস্থায় প্রাথমিক লক্ষন

 গর্ভাবস্থার প্রাথমিক লক্ষণগুলো গর্ভধারণের প্রথম কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে নাও দেখা দিতে পারে। গর্ভাবস্থার শুরুতে যে লক্ষন গুলো দেখা যায়, তা হলো: 

পিরয়ড / মাসিকের বিলম্ব: 

একজন নারী গর্ভবতী হয়েছে কি না তা জানা যায় যদি মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। প্রতি মাসে যে তারিখে মাসিক বা পিরিয়ড হয়,  সে সময় যদি না হয় তাহলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হয়, সেই নারী গর্ভবতী হয়েছেন।

স্তনের আকার পরিবর্তন: 

গর্ভাবস্থার শুরুতে  স্তনে  পূর্বের তুলনায় কোমলতা, ফোলাভাব লক্ষ্য করা যায়। 

বমি বমি ভাব 

গর্ভাবস্থায় খুব সাধারন একটি ব্যপার হলো বমি বমি ভাব। অনেকের ক্ষেত্রে সারাদিনে কয়েক বার বমি হওয়ার প্রবনতা লক্ষ্য করা যায়। আবার অনেকের শুধু বমি ভাব আসে কিন্তু বমি হয় না। 

ক্লান্তি

এই সময়ে শরীর অনেক ক্লান্ত হয়ে যায়। আগে যে ধরনের কাজ অনায়াসে করা যেত, গর্ভধারনের পর শরীর সামান্য পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পরে। শরীর ভারি মনে হয় এবং এই সময় মায়েরা  সারাক্ষন শুয়ে থাকতে পছন্দ  করে। 

মূত্রত্যাগের তীব্র ইচ্ছা

প্রাথমিক ভাবে অর্থাৎ গর্ভধারনের শুরুর দিকে এই লক্ষনটি দেখা যায়। বেশিরভাগ গর্ভবতী  নারীর ক্ষেত্রে দেখা যায় পুরো সময় জুড়ে মূত্রত্যাগের লক্ষনটি দেখা যায়। সন্তান পেটে আসার কারনে যোনি আগের তুলনায় ভারি হয়ে যায়, যার কারনে প্রস্রাব না হলেও সারাক্ষন প্রস্রাবের চাপ অনুভূত হয়। 

প্রাথমিক অবস্থার পরের লক্ষন

দেরীতে অর্থাৎ গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ের পরের  লক্ষণ গুলো  গর্ভধারণের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় মাসে দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:

পেটে ফোলাভাব

পেটে থাকা সন্তানের আকার বড় হওয়ার কারনে পেট আগের চেয়ে বেশি বড় হয়ে যায় এবং দিন দিন পেটের আকার বড় হতে থাকে। অনেকের ক্ষেত্রে পেটের আকার চার বা পাচ মাস পরের দিকে পরিবর্তিত হয়।

শিশুর নড়াচড়া অনুভব করা

সাধারনত তিন মাস সময়ের পর থেকে পেটের মধ্যে শিশুর নড়াচড়া অনুভব করা যায়। গর্ভাবস্থায় শিশুর নড়াচড়ার উপর নির্ভর করে শিশুর সুস্থতা সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

পিঠে ব্যথা

গর্ভাবস্থায় পিঠে ব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা। গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই পিঠে ব্যথা শুরু হতে পারে, তবে সাধারণত দ্বিতীয় বা তৃতীয় ত্রৈমাসিকে এটি সবচেয়ে বেশি হয়। গর্ভাবস্থায় পিঠে ব্যথা সাধারণত মাঝারি থেকে হালকা হয়। তবে, কিছু ক্ষেত্রে ব্যথা তীব্র হতে পারে এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে। গর্ভাবস্থায় পিঠে ব্যথার অনেক কারণ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: 

  • জরায়ুর বৃদ্ধি: জরায়ু বৃদ্ধির ফলে পিঠের পেশী এবং লিগামেন্টগুলিতে চাপ পড়ে।
  • ওজন বৃদ্ধি: গর্ভাবস্থায় শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায়। এটিও পিঠের ব্যথার কারণ হতে পারে।
  • হরমোন পরিবর্তন: গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এই হরমোনগুলি পেশী এবং লিগামেন্টগুলিকে শিথিল করতে পারে, ফলে পিঠের ব্যথা হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সাধারণ সমস্যা। প্রায় 70% গর্ভাবস্থায় মহিলারা কোষ্ঠকাঠিন্যের অভিজ্ঞতা পান। গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্যের অনেক কারণ রয়েছে। যেমন : গর্ভাবস্থায় শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায়। এই ওজন বৃদ্ধি পেটে চাপ সৃষ্টি করে যার কারনে  মল সহজে বের হতে পারেনা। অনেক সময় পানির ঘাটতি থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। গর্ভাবস্থায় অনেক মহিলা পানি কম পান করেন। পানি মলকে নরম করতে সাহায্য করে, তাই পানি কম পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। এছাড়াও আর একটি কারন হচ্ছে গর্ভাবস্থায় মহিলারা  খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তন করেন। যার কারনে কোষ্ঠকাঠিন্য এর সমস্যা দেখা যায়।

মাথাব্যথা

গর্ভাবস্থায় বেশিরভাগ মহিলাদের মাথাব্যথার প্রবনতা লক্ষ্য করা যায়। এই সময় প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এই হরমোনটি মস্তিষ্কের রক্তনালীগুলিকে প্রসারিত করে  যার কারনে  মাথাব্যথা হয়। জরায়ু বৃদ্ধির কারনেও মাথা ব্যথা হয়ে থাকে। গর্ভাবস্থায় অনেক মহিলা ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়েন। ডিহাইড্রেশন মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।

গর্ভবস্থায় পেটে দাগ

গর্ভাবস্থায় পেটের আকার আগের তুলনায় অনেক বড় হয়ে যায়। যার কারনে ত্বকের পরিবর্তন, যেমন গর্ভবতী দাগ এবং পেট দাগ হয়। 

অন্যান্য লক্ষণ যা গর্ভাবস্থা নির্দেশ করতে পারে এর মধ্যে রয়েছে:

  • হঠাৎ খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বা ঘৃণা
  • গন্ধের প্রতি সংবেদনশীলতা
  • মুডের পরিবর্তন
  • মানসিক বিভ্রান্তি
  • মাথা ঘোরা বা অজ্ঞানতা
  • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা

শেষ কথা

এই লক্ষন গুলো ছাড়াও গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করার জন্য, আপনি একটি হোম প্রেগন্যান্সি টেস্ট বা রক্ত ​​পরীক্ষা করতে পারেন। গর্ভধারণের প্রথম লক্ষণগুলি অনুভব করলে একজন ডাক্তারের সাথে দেখা করা গুরুত্বপূর্ণ। তারা আপনার গর্ভাবস্থার সময় আপনার যত্ন নিতে সাহায্য করতে পারে। 

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply