You are currently viewing সম্পর্ক ও ভালোবাসা মধুর করার উপায়!
ভালোবাসা ও সম্পর্ক মধুর করার উপায়

সম্পর্ক ও ভালোবাসা মধুর করার উপায়!

প্রেমের সপ্তাহ  পেরিয়ে আমরা এখন ভালোবাসার মাস বসন্ত অতিক্রম করছি। আমাদের চারপাশে যারা শীত প্রিয় মানুষ আছে তারা এখন হয়তো ফেলে আসা শীতের আমেজের বিরহ অনুভব করছিকিন্তু চারপাশে নব নব পাতা আর বাহারী ফুল জানান দিচ্ছে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনের কথা।

আর কয়েক দিন পর সেই পাতাঝড়া নতুন গাছে বসে কোকিল ডাকতে শুরু করবে। কোকিলের অবিরাম ডাক আমাদের জানান দিবে প্রেমের সপ্তাহ পেরিয়ে প্রেমের ঋতুতে পা দেয়ার কথা। তখন মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রেম উকি দিতে শুরু করবে বাইরে। কারো কারো মনের মধ্যে বহুদিন আগের সেই প্রিয়ার কথা মনে পরবে, যার হৃদয়ের মনি কোঠায় সারাজীবনের জন্য গেথে যাওয়ার কথা ছিল! কেউ কেউ আবার প্রেমের এই মাসে তার প্রেয়সী কিংবা প্রানেশ্বর কে আর কিভাবে ভালোবাসা যায় সেই ভাবনায় দিনাতিপাত করছে। তাই ভালোবাসার এই মাসে হাজির হলাম আপনার প্রিয় মানুষের আরো কিভাবে আপন হয়ে ভালোবাসা আদায় করে নিতে পারেন, সেই আইডিয়া নিয়ে। আপনি যদি বুঝে উঠতে না পারেন আপনার প্রিয় মানুষকে খুশি করার জন্য কিংবা আরো মধুর করার জন্য আর কি করা উচিৎ, তাহলে আপনার জন্যই আমাদের আজকের এই নিবেদন! 

. প্রিয়জনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করা: 

একটা সম্পর্কে নিয়মিত যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্ক কে মধুর করতে। লং ডিসটেন্স রিলেশন হলে নিয়মিত আপনার প্রিয়জনের সাথে কথা বলুন। সময় পেলে তার সাথে কথা বলুন। সে কি চায়, কি করলে খুশি হবে এসব ব্যপারে জিজ্ঞেস করুন। আর যদি আপনার প্রিয়জন আপনার কাছেই থাকে তাহলে দিনের একটা সময় বিশেষ করে তারজন্য বরাদ্দ রাখুন। একটা সম্পর্কে যখন খোলামেলা ভাবে সবকিছু শেয়ার করা যায়, তখন সেই সম্পর্কে জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম হয়। কথার ছলে আপনার প্রিয়জনের পছন্দ অপছন্দের বিষয় গুলো জেনে নিন, আপনার কোন জিনিসটি তার কাছে খারাপ লাগে বা না করলে সে খুশি হবে সেগুলো জেনে নিন। দেখবেন আপনাদের সম্পর্কে কখনো অশান্তি বা ভুল বোঝাবুধি সৃষ্টি হবেনা। আপনি যখন নিজের ইচ্ছে বা ভালোলাগা সম্পর্কে তাকে বলবেন পাশাপাশি আপনার প্রিয়জনকেও জিজ্ঞেস করুন তার ইচ্ছের কথা। নিয়মিত এই জিনিস গুলো চর্চা করুন দেখবেন নিজের অজান্তেই আপনারা দুজন দুজনের আরো কাছাকাছি চলে এসেছেন। 

২. নিরিবিলিতে সময় কাটান: 

সম্পর্ক হচ্ছে গাছের মতন। একটা গাছ রোপন করার পর যেমন নিয়মিত পানি দিতে হয়, যত্ন নিতে হয় তখন গাছটি সুন্দর ভাবে বেড়ে উঠতে পারে। ঠিক তেমনি একটা সম্পর্কে যাওয়ার পরে বা বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরেও সেই সম্পর্ক ভালো করার জন্য যত্নশীল হতে হয়। সম্পর্ক কে দীর্স্থায়ী এবং সুখী করার জন্য দুজন দুজনের জন্য সময় বরাদ্দ রাখুন। সময় করে প্রিয়জনকে নিয়ে তার পছন্দের জায়গায় ঘুরে আসুন কিংবা দুজনে নিরিবিলি বসে চা কফি খেতে খেতে গল্প করুন, পছন্দের গান কিংবা কবিতা আবৃত্তি করুন। নিয়মিত এগুলো চর্চা করলে সম্পর্ক আরো আনন্দময় হয়ে উঠবে। আর আপনার প্রিয়জনও তখন আপনাকে মন থেকে আরো ভালবাসতে চাইবে। তাই সম্পর্ক বা বিয়ে হয়ে গেলেই ভাববেন না আপনি প্রিয়জনকে জয় করে ফেলেছেন বরং আপনার দায়িত্ব আরো বেড়ে যায়। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রিয় জনের জন্য স্পেশাল সময় রাখুন সম্পর্ক কে আরো মধুর করতে। স্পেশাল সময় দেয়ার কারনে  আপনার প্রিয়জন তখন নিজেকে স্পেশাল মনে করবে। 

৩. প্রিয়জনের প্রতি যত্নশীল হন |সম্পর্ক মধুর করতে|

ভালোবাসায় যত্ন না থাকলে সেটাকে ভালোবাসা বলা যায় না। যত্নশীল প্রেমিক/ হাজবেন্ট কিংবা যত্নশীল একজন প্রেমিকা / ওয়াইফ পাওয়া  প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন। কোনো এক দার্শনিক বলেছিলেন, “Love is the melody; caring is the rhythm that keeps it playing.” আপনার প্রিয়জনকে আপনাকে কতটুকু ভালবাসেন সেটা বোঝা যায় আপনি কতবেশি তার যত্ন করছেন সেই  যত্নের মাধ্যমে। ভালোবাসা পাওয়া প্রতিটি মানুষের সারাজীবনের বহুল কাঙ্খিত বিষয়। তাই আপনার প্রিয়জনের থেকে যদি আপনি বেশি ভালবাসা পেতে চান তাহলে আপনি তার প্রতি যত্নশীল হয়ে উঠুন, তার প্রতি সদয় হোন। যত্নশীল স্বামী / স্ত্রী কিংবা প্রেমিক/ প্রেমিকা হতে খুব বেশি কিছু করতে হয়না। যেমন ধরুন আপনার প্রিয় মানুষটির অসুখ করেছে তার থেকে দূরে থাকলে বারবার খবর নিন সময় মতো খেয়েছে কি না, ওষুধ খেয়েছে কি না! আর যদি কাছে থাকেন তাহলে তার পাশে থেকে সেবা করুন। তার চোখে চোখ রেখে বলুন, “ আমি তোমার পাশে আছি, কিচ্ছু হবেনা তোমার।” ব্যস এতটুকু কথার জোরেই আপনার প্রিয়জনের আরো প্রিয়তম হয়ে উঠবেন। মাঝে মাঝে প্রিয়জনের জন্য তার পছন্দের খাবার আনতে পারেন কিংবা নিজ হাতে রেঁধে খাওয়াতে পারেন। 

৪. প্রিয়জনের প্রশংসা করুন:

প্রশংসা করলে ছোট বড় সবাই খুশি হন। আর সেই প্রশংসা যদি হয় সবথেকে প্রিয় মানুষের কাছ থেকে তাও আবার খুব ছোট্ট কোনো কাজের জন্য তাহলে তো কথাই নেই। আপনার প্রিয়জনের সাথে আপনার সম্পর্ক আরো মধুর করে তুলতে প্রিয়জনের প্রশংসা করুন। মেয়েরা সবথেকে খুশি হয় তাদের রুপের প্রশংসা করলে আর ছেলেরা খুশি হয় তাদের কাজের প্রশংসা করলে। তাই আপনি যদি মহাপ্রেমিক হয়ে থাকেন তাহলে আপনার প্রেয়সী বা স্ত্রীর প্রশংসা করুন প্রানখুলে। বলুন “তোমাকে তো আজ ভারী সুন্দর লাগছে / তোমার হাসির প্রেমে আমি বারবার পরি।” শুধু চেহারা নয় বরং রান্না বা যে কোনো কিছুর প্রশংসা করতে পারেন। এতে করে আপনার প্রিয়জন আরো বেশি ভালবাসতে বাধ্য হবে আপনাকে। আর মেয়েরা কিভাবে প্রশংসা করবেন ভাবছেন নিশ্চই? আচ্ছা বলে দিচ্ছি আপনি আপনার প্রেমিক কে বলতে পারেন সে আপনার প্রতি অনেক বেশি যত্নশীল / দায়িত্বশীল। তাকে পেয়ে আপনি অনেক বেশি সৌভাগ্যবান মনে করেন…!  এরকম হাজারো প্রশংসা আছে। প্রশংসা করে যদি একটু বেশি ভালবাসা পাওয়া যায় মন্দ কিসে!

৫. প্রিয়জনের লাভ ল্যাংগুয়েজ বুঝুন: 

শুনে নিশ্চই অবাক হচ্ছেন ভালোবাসার আবার নিজস্ব ভাষা আছে নাকি! হ্যা আছে তবে সেটার নির্দিষ্ট কোনো প্যাটার্ন নেই। একেক জনের ভালোবাসার ভাষা একেকরকম। এক্ষেত্রে আপনাকে বুঝে নিতে হবে আপনার প্রিয়জনের ভালোবাসার ভাষা। অনেকেই আছে সরাসরি নিজের ভালবাসা প্রকাশ করতে চায়না কিংবা পারেনা। সেক্ষেত্রে অপর পক্ষের সেই মানুষটিকে কষ্ট করে বুঝে নিতে হয়। আপনার প্রিয়জন যদি আপনাকে ভালবাসি না বলে তাহলে তার আচরন এর মাধ্যমেই বুঝে নিতে পারবেন সে আপনাকে ভালোবাসে কি না। যেমন ধরুন সে আপনার প্রতি কতবেশি যত্নবান, আপনাকে ঠিক মত সময় দিচ্ছে কি না, আপনাকে সে কতটুকু গুরুত্ব দিচ্ছে এগুলোর মাধ্যমে আপনি আপনার প্রিয়জনের ভালবাসার ভাষা বুঝে নিতে পারবেন। 

৬. প্রিয়জনে কে  সাপোর্ট করুন:

প্রেমিক বা প্রেমিকা  সবাই হতে পারে কিন্তু সাপোর্টিভ প্রেমিক / প্রেমিকা কিংবা স্বামী/ স্ত্রী সবাই হতে পারেনা। অনেক সময় এমন হয় যে প্রিয় মানুষের জন্য নিজের ভালোলাগা মন্দ লাগা সবকিছু বিসর্জন দিতে হয়! একটা হেলদি রিলেশনশিপে কখনো এ ধরনের বিসর্জন আর যাই হোক স্থায়ী সুখ এনে দিতে পারেনা। আপনি যদি সত্যি সত্যি আপনার প্রিয়মানুষকে ভালোবাসে থাকেন তাহলে তাকে সুখী দেখার মাধ্যমে আপনি সুখী হতে পারবেন। কিন্তু আপনি যদি নিজের ভালোর জন্য আপনার প্রিয়জনের কোনো কাজে বাধা দেন তাহলে মোটেও সেই কাজ আদর্শ কোনো প্রেমিক/ প্রেমিকার হতে পারেনা। প্রিয়জন যদি কোনো কাজ করে আর সেটা যদি খারাপ না হয় তাহলে তাকে সেই স্বপ্ন পূরনের জন্য সাপোর্ট করুন,  যত হেল্প লাগে করুন। তার স্বপ্ন পূরনের জন্য সাহস দিন পাশে থেকে। দেখবেন আপনার সেই প্রিয় মানুষটি একদিন যখন তার স্বপ্নে কিংবা লক্ষ্যে পৌছাবে সে সবার সামনে আপনার নাম বলবে, আর যাই হোক না কেন কৃতজ্ঞতা স্বরুপ সে আপনার হাত কখনো ছাড়বে না! তাই আপনার প্রিয়জনের আরো প্রিয়তম হতে, সম্পর্ক কে আরো বেশি সুন্দর ও মধুর করতে সাপোর্টিভ প্রেমিক/ প্রেমিকা কিংবা হাজবেন্ট/ ওয়াইফ হোন। 

৭.  প্রিয়জনের পাশে থাকুন: 

মানুষের জীবনে যখন কোনো খারাপ সময় আসে তখন মানুষ সবচেয়ে বেশি মিস করে তার প্রিয় মানুষকে। এটা মানুষের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য। মানুষ যে কোনো বিপদে পরলে প্রথমেই সাহায্য চায় প্রিয়জনের কাছ থেকে। কঠিন সময় গুলোতে প্রিয়জনের হাতে হাত রেখে সময় কাটাতে চায়। এতে যতবড় দুঃখই জীবনে আসুক না কেন মানসিক ভাবে শান্তি অনুভব করে। তাই কেবল  সুখ নয়, দুঃখের সময়ও আপনার প্রিয়জনের পাশে থেকে তাকে সাহস দিন, দুনিয়ার সবাই তার বিপক্ষে গেলেও আপনি তার পাশে থাকুন, তার হাত শক্ত করে ধরুন। সম্পর্ক মধুর করতে নিয়মিত এসব বিষয় চর্চা করুন। 

শেষ কথা: 

ভালোবাসা প্রতিটি মানুষের জীবনে কাম্য। কিন্তু সবার সেই ভালোবাসা পাওয়ার সৌভাগ্য হয় না। কেউবা ভালোবাসা পেয়েও হারিয়ে ফেলে। ভালোবাসা পুরোপুরি বোঝাপড়ার বিষয়। আপনি যতটুকু দিবেন ঠিক ততটুকুই আপনি অপর পক্ষ হতে পাবেন। তাকেই আপনার প্রিয়জনের ভালোবাসা পেতে আপনিও তাকে ভালোবাসুন। তারপ্রতি যত্নশীল হোন, সময় দিন, তাকে বোঝার চেষ্টা করুন দেখবেন ভালোবাসা নিজে নিজে এসে ধরা দিয়েছে! সবাই ভালো থাকুন আর প্রিয়জনকে বেশিবেশি ভালোবাসুন।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply